Connect with us

Inspirational

সুখী হবার জন্যে দালাই লামার ১০ টি উপদেশ

Published

on

সুখ, জীবনের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত একটি শব্দ। এটি শুধুই কি শব্দ? সৃষ্টির শুরু থেকেই অধরা এই শব্দের পিছনে আমরা ছুটে চলেছি। বিখ্যাত টিভি ব্যক্তিত্ব অপরাহ উইনফ্রে একবার দালাই লামাকে প্রশ্ন করেছিলেন – ‘ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয় এমন কাজ কি কখনো করেছেন?’ উত্তরে তুমুল আলোচিত এই আধ্যাত্মিক মানুষটি বলেছিলেন – ‘মশা এবং ছারপোকার প্রতি আমি ততোটা সহানুভূতিশীল নই।’ ধর্মীয় নেতা হবার পাশাপাশি দালাই লামা তার অসাধারণ জীবনবোধ, অসামান্য জ্ঞান এবং জীবন সংশ্লিষ্ট উপদেশের জন্য বিখ্যাত। সুখী হবার জন্য আমাদের যে নিরন্তর প্রচেষ্টা আদিকাল থেকেই চলে আসছে, তা সফল করতে এবার তাহলে এই মহান মানুষটির দেয়া কিছু উপদেশ জেনে নেয়া যাক –

 

অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হন

 

“The topic of compassion is not at all religious business; it is important to know it is human business, it is a question of human survival.” -Dalai Lama

 

শুধুমাত্র মানসিক উন্নতির জন্য নয়, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব আমাদের স্বাভাবিক হার্টবিট এবং দেহের কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার জন্যও খুব প্রয়োজন। গবেষণাটিতে আরো দেখা গেছে, আমরা খাওয়াদাওয়া করলে কিংবা কোথাও ঘুরতে গেলে যে ধরণের আনন্দ পাই- ঠিক সেই ধরণের আনন্দ আমরা অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার মাধ্যমে খুঁজে পেতে পারি। অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে  অসুস্থ বন্ধু, শোকসন্তপ্ত পরিবার কিংবা গৃহহীন কোনো স্বজনের সাথে কথা বলুন। তাদের সমস্যার সমাধান করতে যদি নাও পারেন তবুও চেষ্টা করুন তাদের মানসিক শক্তির যোগান দিতে।

 

অপরকে সাহায্য করুন

 

“Be kind whenever possible. It is always possible.” -Dalai Lama

 

জীবনের আসল অর্থটা অন্যকে সাহায্য করার ভেতর দিয়েই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এর জন্য কোনো মন্দির, মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা কিংবা জটিল কোনো ধর্মশাস্ত্র বা দর্শনশাস্ত্রের দরকার পড়ে না। নিজের হৃদয় দিয়ে যখন আপনি কাউকে সাহায্য করেন, তখন অদ্ভুত একটা ভালোলাগা এবং প্রশান্তি আপনাকে ছুঁয়ে যাবে; কোনো কিছুর সাথেই যার পাবেন না। খোঁজ নিয়ে দেখুন, হয়তো আপনারই কোনো এক প্রতিবেশী আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ক্লাসের কোনো সহপাঠী হয়তো অজান্তেই ডুবে যাচ্ছে হতাশায়, টিউশনির টাকায় পড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে ডিপার্টমেন্টের কোনো ছোট ভাই। দরকার শুধু একটা সাহায্যের হাত, আর সে হাতটি হতে পারে আপনারও।

 

নিজের সুখ নিজেই খুঁজে নিন

 

“The purpose of our lives is to be happy.” -Dalai Lama

 

রেডিমেড পোশাক, রেডিমেড খাবারের মত রেডিমেড সুখ খুঁজতে আমরা সবাই প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকি। এসব করতে করতে আমরা ভুলেই যাই যে সুখ জিনিসটা আসলে ব্যাংকের চেকবইয়ে, বড় বড় শপিংমলে কিংবা পাঁচ তারকা হোটেলের মেনুকার্ডে নেই! বরং সুখ খুঁজে পাওয়া যায় ছোট ছোট দুটো ভালমন্দ কথায়, একটু-আধটু সাহায্যতে। সুখ দামি ঠিকই, কিন্তু দাম দিয়ে যে সব সময় সুখ কেনা যায় না -এই কথাটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

 

আত্মিক শান্তির প্রতি মনোযোগী হোন

 

দালাই লামার মতে, দিনের কিছুটা সময় আমাদের নিজেদের জন্য একান্তই কিছু সময় কাটানো উচিত। দিনের খানিকটা সময় চারপাশের ক্রমাগত নেতিবাচকতা থেকে নিজেকে বের করে আনার জন্য নিজের সাথে ভাল বোঝাপড়া থাকাটাও খুব দরকার। আমাদের মনই আমাদের চালিকাশক্তি। কী যেন নেই, কী যেন বাকি রয়ে গেল- এই ধরনের চিন্তাভাবনাগুলোই আমাদের যাবতীয় অশান্তির কারণ। তাই ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন, আত্মিক শান্তির উপর গুরুত্ব দিন। দিনশেষে ধোঁয়া ওঠা এককাপ গরম চা, হাতে প্রিয় গল্পের বই সাথে পছন্দসই কোনো গান – এই নিয়ে বারান্দার এক কোণে বসে যান। চাওয়া-পাওয়ার সব হিসাব ভুলে গিয়ে শুধু নিজের সাথে কিছুটা সময় কাটান।

 

অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন

 

“If you can, help others; If you cannot do that, at least do not harm them.” -Dalai Lama

 

যতটা সম্ভব হয়, চেষ্টা করুন অন্যকে সাহায্য করতে। যদি সেটা না পারেন, অন্ততপক্ষে আপনার কারণে যেন কারোর কোনো ক্ষতি না হয় এটা লক্ষ্য রাখুন। আপনার পরনিন্দা, পরচর্চা, গুজব ছড়ানো বা মিথ্যা বলার মত কাজ অন্যের জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এটা মাথায় রাখবেন। অন্যের কাছে নিজেকে অনর্থক জাহির করার ব্যপারটিকে বন্ধুদের ভাষায় অনেকে ‘ফাঁপর নেয়া’ বলে। নিছক মজা করার উদ্দেশ্যে অন্যের উপর ‘ফাঁপর’ নিতে গিয়ে আমরা যেন কারোর মনে কষ্টের কারণ হয়ে না দাঁড়াই।

 

বন্ধু এবং বন্ধুত্বকে সম্মান করুন

 

একজন ভালো বন্ধু জীবনে আশীর্বাদের মতো। ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ, হিংসা, রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বন্ধুত্বকে বিচার করবেন না। বন্ধুত্ব এগুলোর সবকিছুর উর্দ্ধে। ‘ও তো আছেই’ ভেবে যে বন্ধুকে আজ আপনি অবহেলা করছেন, অহেতুক ব্যস্ততায় তাকে কখন যে হারিয়ে ফেলবেন বুঝতেই পারবেন না। আর এই ধরনের পরিস্থিতিতেই জীবনে আসে ডিপ্রেশন। তাই বন্ধুদের গুরুত্ব দিন, বন্ধুত্বকে সময় দিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক নিউজফিড স্ক্রল না করে বন্ধুরা মিলে বরং কাছাকাছি কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। অনেক সময় হয়তো সবাই মিলে একসাথে হওয়া সম্ভব হয় না, সেক্ষেত্রে ভিডিও কল কিংবা কনফারেন্স কলের মতো প্রযুক্তি তো আছেই।

 

প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করুন, প্রযুক্তি যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে

 

আপনি কি জানেন দালাই লামা নামক সম্পূর্ণ সাদামাটা এই মানুষটির আট মিলিয়নের অধিক টুইটার ফলোয়ার রয়েছে? প্রতিদিন সেই সংখ্যা বাড়ছে। প্রচুর লোক রোজ তাঁর বিভিন্ন বাণী, বিভিন্ন টুইট রিটুইট করে থাকে। কিন্তু খুব কম লোক আছে যারা তাঁর এই বাণীগুলোকে নিজের জীবনে কাজে লাগায়। প্রযুক্তি আজকাল জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ, সৌজন্য এবং সৌহার্দ্য। তাই প্রযুক্তি আপনাকে পুরোপুরি গ্রাস করার আগেই লাগাম টানুন, যতোটুকু না হলেই নয় ঠিক ততোটুকুই ব্যবহার করুন।

 

সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করুন, ঝগড়া বিবাদ বা গায়ের জোরে নয়

 

ধরে নিন, রাস্তায় একটা পাথর পড়ে আছে। আপনি চাইলে পাথরটা এড়িয়ে পাশ দিয়ে চলে যেতে পারেন, আবার পাথরটা ভেঙে রাস্তা করে নিতে পারেন। কোনটা করবেন আপনি?

 

যেকোনো সমস্যা সামনে এলে চেষ্টা করুন শান্তিপূর্ণ সমাধান করার। গায়ের জোরে সমাধান করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হতে পারে। যে সমস্যার সমাধান হাসিমুখে, দুটো ভালো কথায় করা সম্ভব, সেখানে শুধু শুধু গলাবাজি করা বা গায়ের জোর দেখানোটা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই না!

 

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন

 

“When you lose, don’t lose the lesson.” -Dalai Lama

 

নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিন। কতোবার ব্যর্থ হয়েছেন তা মনে রাখার চেয়ে কেন ব্যর্থ হয়েছেন সেটা মনে রাখা বেশি জরুরি। কোথায় ভুল ছিল আর কীভাবে সেই ভুলগুলিকে এড়ানো যায় সেইদিকে মনোযোগ দিন। আমরা সবসময় চেষ্টা করি খারাপ মুহূর্তগুলোকে ভুলে যেতে। অথচ খারাপ সময়ই আমরা জীবনের সবচেয়ে দামি শিক্ষাটা পাই। খারাপ সময় কেন এসেছিল, কীভাবে সেই সময়টাকে কাটিয়ে উঠলাম, কে কে সেই সময়ে পাশে ছিল আর কারা সেই দু:সময়ে ন্যূনতম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি-এই শিক্ষাগুলি নিজের জীবন থেকে নিতে হবে, কোনো ক্লাসরুমের ব্ল্যাকবোর্ডে এগুলো পাওয়া যায় না।

 

তাহলে? কি মনে হয়? দালাই লামার এই উপদেশগুলো কি একটু হলেও আপনাকে সাহায্য করবে সুখী হতে? এক কাজ করুন, আজ থেকেই বরং চেষ্টা করুন এই কথাগুলো মেনে চলার এবং আপনার প্রিয়জনকেও জানিয়ে দিন সুখী হওয়ার এই উপদেশগুলো। প্রথমদিকে হয়তো সবগুলো মেনে চলতে পারবেন না, কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন সুখী হওয়ার জন্য আসলে খুব বেশি কিছু লাগে না। সততা, হৃদয়ের উষ্ণতা আর অন্যের প্রতি সহমর্মিতা…..ব্যস,আর কি চাই! 

Inspirational

দ্যা আলকেমিস্ট বই থেকে ১০টি জীবন শিক্ষা

Published

on

পাওলো কোয়েলহো নিঃসন্দেহে একবিংশ শতাব্দীর একজন গুণী লেখক। অবশ্যই তাঁর লেখনীর সৃজনশীলতা তৈরি হয়েছে গত ৫০ বছরে, কিন্তু তাঁর জ্ঞান এবং যুক্তিবাদীতা নিঃসন্দেহে বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বর্তমানে মানুষ ভোগবাদী এবং প্রগতিশীল জীবনযাত্রার জেলে আবদ্ধ। মানুষ ভুলে যেতে বসেছে যে তাদের একটি আধ্যাত্মিক দিক রয়েছে এবং তারা চাইলেই তাদের আত্মা থেকে দূরে সরে যেতে পারবে না। এবং আমরা জেনে হোক না জেনে হোক, কেন যেন কৃত্রিমতার মাঝে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে বেশি ভালোবেসে আসছি।

 

অগাধ জ্ঞানের অধিকারী পাওলো আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন একটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান ভান্ডার যা কিনা আমাদের সকলের সামনে “দ্যা আলকেমিস্ট” নামে পরিচিত। এই বইটি জীবন দর্শনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়কে তুলে ধরেছে। তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর প্রবল ইতিবাচক মানসিক চিন্তাধারা কিছু সুন্দর বিষয় আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে। যা প্রমাণ করেছে, বই শুধু চিত্তবিনোদনের জন্য নয়, বরং জীবন দর্শন এবং জীবন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখে।

 

সাধারণত আমরা বই পড়ে থাকি সময় কাটানোর জন্য। আবার অনেকের ক্ষেত্রে বই পড়ার বিষয়টি জ্ঞান অর্জন করার জন্য হয়ে থাকে। কিন্তু আসলে একটি বই, যা কিনা জীবন দর্শন এবং জীবনকে আরো বেশি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে সে বইটিকে নিঃসন্দেহে একটি জ্ঞানভাণ্ডার ছাড়া আর অন্য কোন নামে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়। আজকে আমি তোমাদের জানাবো পাওলোর বিখ্যাত বই “দ্যা আলকেমিস্ট” বইয়ের কিছু জীবন দর্শন বা শিক্ষা যা তোমার জীবনকে আরও উন্নত করতে এবং পূর্ণাঙ্গ করতে সহায়তা করবে।

 

ভয় হচ্ছে তোমার জীবনের অন্যতম বাধা অন্য যেকোন দর্শনীয় বাধার চেয়েও ভয়ংকর বাধা হচ্ছে ভয়

 

ভয়ের কষ্ট নিজের সাথে লড়াই করা যেকোন কষ্টের চেয়ে ভয়ংকর। জীবনে কষ্ট ছাড়া কোনো সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সফলতাকে না খুঁজলে সফলতা কখনো ধরা দেবে না। সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রেখে, ভয়কে দূরে সরিয়ে সফলতা খোঁজার জন্য বেরিয়ে পড়ো।

 

অজানা যেকোনো বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে ভয় কাজ করে। কিন্তু একই সাথে নতুন যে কোন বিষয় স্বাগতম জানানোর ব্যাপারটি আমাদের মাঝে উৎফুল্লতার সাথে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। বিশ্বাস রাখতে হবে, মানুষ হিসেবে আমাদের মাঝে যেকোনো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া একই সাথে যে কোন নতুন বিষয় জানার ব্যাপারটি অনেক ভালোভাবেই কাজ করে।

 

তাই অজানা কোন কিছু নিয়ে ভয় না পেয়ে নতুনকে বরণ করে নাও, স্বাগতম জানাও। একই সাথে ভয়কে জয় করে প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করবে করবে এমন একটি ইচ্ছা নিজের মাঝে পোষণ করো।

 

সত্যের জয় সব সময় হয়

 

তুমি যদি যেকোন পরিস্থিতিতে সত্যকে সবসময় গুরুত্ব দাও, তাহলে কেউ যদি তোমাকে ভুল বুঝে থাকে, তবুও সে কোন না কোন সময় তোমার সত্যটাকে অনুধাবন করে তোমার কাছে আসবে। ঠিক একই রকমভাবে তুমি যদি সাময়িকভাবে খুব ছোট এবং ক্ষণস্থায়ী আলোক রশ্মির মত মিথ্যাটাকে বেশি গুরুত্ব দাও, তাহলে জেনে রেখো কেউ যদি তোমাকে ভুল বুঝে থাকে, সে তোমাকে সাময়িক সময়ের জন্য সঠিক তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

 

সত্যকে কখনোই নতুন করে ভিন্ন রূপ দেয়া সম্ভব নয়। সত্য সব সময় অনেক বেশি মূল্যবান এবং শক্তিশালী। আর তাই যখনই তুমি সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সন্ধান করবে, সব সময় সত্যটাকেই বেশি গুরুত্ব দেবে। সেই সাথে অপরের সাথে সব সময় সত্যবাদী থাকায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। কারণ, একমাত্র সত্যই তোমাকে যে কোন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে একমাত্র কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। আর পরিস্থিতি যতই নেতিবাচক থাকুক, মিথ্যার আশ্রয় নেবে না।

 

একঘেয়েমি বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলো

 

যখন কারো জীবনের প্রতিটি দিন একই রকম থাকে, তার মানে সে ভুলে গেছে যে, তার জীবনে প্রতিদিনই একটি চমৎকার নতুন বিষয় হচ্ছে আর তা হচ্ছে প্রতিদিনই নতুন সূর্য উঠবে নতুন সম্ভাবনা জাগ্রত হচ্ছে।

 

অর্থাৎ জীবনটাকে কোনোভাবেই একঘেয়ে করে ফেলা যাবে না। আমাদের আশেপাশে প্রতিটি দিনই নিত্য নতুন সম্ভাবনা, নিত্যনতুন অনেক কিছু ঘটছে প্রতিনিয়তই। মনে রাখতে হবে একঘেয়েমি হচ্ছে অনেকটা নীরব ঘাতকের মতো। তুমি যখন নিজের জীবনে কোন আনন্দ খুঁজে পাবে না বা নতুন কিছু করার মতো খুঁজে পাবে না, তার মানে তুমি তোমার জীবন থেকে সকল ধরনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছো।

 

আর কোন কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা মানে, নতুন কোন কিছু নিয়ে সামনে এগোবার মত কোন প্রাণশক্তি তোমার মাঝে আর অবশিষ্ট নেই। বিষয়টি একটু গভীরভাবে ভাবতে গেলে অনেক ভয়ঙ্কর যে, নতুন কিছু করবার মতো যখন প্রাণশক্তি আমাদের মাঝে অবশিষ্ট থাকে না, তখন কিন্তু নতুন কোন সফলতাও আমরা দেখতে পাই না। আর তাই জীবন থেকে একঘেয়ে ব্যাপারগুলোকে সরিয়ে ফেলো, পরিবর্তনকে স্বাগতম জানাও, নিত্যনতুন কাজের মাধ্যমে নিজের আগ্রহকে ধরে রাখার চেষ্টা করো।

 

বর্তমানকে আলিঙ্গন কর

 

অতীতে না, ভবিষ্যতে না, সব সময় বাঁচার চেষ্টা করো বর্তমানে। তুমি যদি সব সময় তোমার বর্তমান সময়ের দিকে মনোযোগী হও তাহলে নিঃসন্দেহে তুমি অনেক সুখী একজন মানুষ হবে।

 

মনে রাখতে হবে, তোমার অস্তিত্ব বর্তমানে এবং এখনই। অর্থাৎ নিজের বর্তমানকে যদি গুরুত্ব না দাও, তাহলে একটি উজ্জ্বল আগামীকাল তোমার সামনে ক্ষীণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, অতীত বা ভবিষ্যৎ কোনটাই তোমাকে রাতারাতি কোন ফলাফল এনে দেবে না, তারপর তুমি যদি ভবিষ্যৎ নিয়েই পড়ে থাকো তাহলে তোমার আগামীকালটি সুন্দর হবে না।

 

মনে রাখতে হবে, যদি আগামীকালকে সুন্দর করতে চাও তাহলে বর্তমানেকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীত নিয়ে পড়ে থাকার কোন মানে নেই, কেননা অতীতের চিন্তা তোমাকে দুশ্চিন্তা ছাড়া আর কিছুই দেবে না। অপরদিকে ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আকাশ কুসুম কল্পনা তোমাকে বাস্তব পৃথিবী থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। আর তাই বর্তমানকে দাও বেশি গুরুত্ব ।

 

সফলতার ঢেউয়ের মতো প্রভাব রয়েছে

 

যখন তুমি সংগ্রাম করবে, নিজেকে আরও বেশি উন্নত করবে তখন দেখবে তোমার আশেপাশের সব কিছুই আরো বেশি উন্নত এবং মনমত মনে হচ্ছে। অর্থাৎ তুমি যখন নিজের প্রচেষ্টায় নিজেকে সফলতার শীর্ষস্থানে দেখতে চাইবে তখন খেয়াল করবে তোমার আশেপাশের প্রতিটি জিনিসকে তুমি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছো।

 

একই সাথে তোমার সব কিছুই আগের চেয়ে অনেক ভালো লাগছে, অর্থাৎ আমাদের সফল হবার ইচ্ছা শুধু যে আমাদেরকে উন্নত জীবন দান করে তাই নয়, বরং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকেও উন্নত করে। যাতে করে আমরা আমাদের চারপাশের সব কিছুকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারি।

 

মনে রাখবে তোমার পরিবর্তন হচ্ছে তোমার নিজেরই বিবর্তন। অর্থাৎ, তুমি যখন নিজেকে পরিবর্তন করতে চাইবে তখন আশেপাশের জিনিসগুলোকেও তুমি পরিবর্তিতভাবে গ্রহণ করতে শিখবে। আর তাই নিজেকে নিত্যনতুন কাজের সাথে খাপ খাইয়ে নাও। একই সাথে নিজেকে সফল করার জন্য উন্নত  স্বপ্ন দেখো। দেখবে আশেপাশের সব কিছুই তোমার সফলতার সাথে সাথে পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।

 

স্পষ্টবাদী হও

 

যখনই আমরা কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চাই, তখনই আমরা এমন কিছু পরিস্থিতি বা সিদ্ধান্তের সম্মুখীন হই, যা পূর্বে কখনো ভাবিনি। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের পরিস্থিতি আমাদের সামনে আসতে পারে। তবে বিশ্বাস রাখতে হবে, তুমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দেরি করলে বা অতিরিক্ত ভাবলে তাতে করে যে তোমার সিদ্ধান্ত অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে, তা নয় বরং যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপাতদৃষ্টিতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

 

কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্পষ্টবাদী মনোভাব যদি তোমাকে সাপোর্ট করে, তাহলে অবশ্যই দেরি না করে সে  সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলা উচিত। অর্থাৎ যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে তোমারস স্পষ্টবাদী মনোভাবের পাশাপাশি তোমার বিবেককেও জাগ্রত করো। নিজেকে জিজ্ঞেস করো, যে সিদ্ধান্তটি নিতে তুমি যাচ্ছো তা আদৌ ফলপ্রসূ কিনা। আর যদি সেটা ফলপ্রসূ না হয়, তবে সে ধরনের সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে চলে সাহসিকতার সাথে সামনে এগিয়ে যাও।

 

তোমার কল্পনাকে মুক্ত করে দাও

 

কল্পনাশক্তিকে কোনভাবেই আবদ্ধ না রেখে বরং তোমার কল্পনাশক্তিকে মুক্ত করে দাও। আরো বেশি স্বাধীনভাবে কল্পনা করবার জন্য তুমি যখন স্বাধীনভাবে তোমার ভবিষ্যৎ বা আগামী নিয়ে কল্পনা করতে পারবে, তখন তুমি অনেক সফল এবং সুখী জীবনযাপন করতে পারবে।

 

আমাদের অন্যতম সমস্যা হল আমরা কল্পনা করতে গিয়েও কিপটেমি করে বসি। ভাবি, “এটা কল্পনা করে আমাদের কী লাভ? এরকম তো আর হবে না!” কিন্তু তুমি যদি স্বপ্ন বড় না দেখো, তাহলে বড় কিছু কিন্তু অর্জন করতে পারবে না। তোমার কল্পনাকে যদি তুমি স্বাধীন করে না দাও, তাহলে বড় কিছু অর্জন করা তোমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। আর তাই তোমার কল্পনা শক্তিকে মুক্ত করে দাও। নিজের মত করে কল্পনা করো। তাহলে সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপদান করার জন্য তোমার ভেতরে আকাঙ্ক্ষার জন্ম হবে।

 

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যহত রাখো

 

জীবনে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হলো সাতবার পড়ে গিয়েও আটবারের বেলায় উঠে দাঁড়াতে হবে।

 

কখন আত্মসমর্পন করো না, কখনো হেরে যেও না। তোমার বিশ্বাসই তোমার সফলতা নির্ধারণ করবে। আর তাই যত সমস্যায়ই পড়ো না কেন, যত বিপদই সামনে থাকুক না কেন, যদি তা তোমার সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে অবশ্যই ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নিজের ভেতর রাখতে হবে।

 

মনে রেখো, ঘরে বসে থাকলে কোন সফলতা তোমার সামনে আসবে না। সেজন্য তোমাকে লড়াই করতে হবে। তুমি বারবার পড়ে যাবে কিন্তু তোমাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। জীবনে যদি সফল হতে চাও নিজের উপর বিশ্বাস রাখো। এই বিশ্বাস রাখো, যত সমস্যাই হোক তুমি ঘুরে দাঁড়াবেই। এটা আশা করোনা যে অন্য কেউ সব সময় তোমার উপর বিশ্বাস রাখবে। নিজের বিশ্বাস তোমাকে নিজের উপরই রাখতে হবে।

 

নিজের পথ অনুসরণ কর

 

নিজের সম্পর্কে যদি তোমার নিজের কোনো স্পষ্ট ধারণা না থাকে, কোন পথ যদি তোমার নিজের তৈরি না থাকে, তাহলে অন্যরা কতক্ষণ তোমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারবে? আমাদের সবারই কিছু ভ্রান্ত বিষয়ে থাকে, অপরের ব্যাপারে অগাধ জ্ঞান থাকে, অপরের রাস্তা সম্পর্কে আমরা খুব বেশি অবগত থাকি। কিন্তু নিজে আসলে কোন পথে হাঁটতে চাই সেই ব্যাপারে অবগত হতে পারি না।

 

অন্যেরা তাদের অভিজ্ঞতা তোমার সাথে শেয়ার করবে। অবশ্যই আরেকজনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানা ভালো। তাতে করে তোমার নিজের পথকে তুমি কীভাবে আরো মসৃণভাবে চলতে পারবে সে ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। কিন্তু মনে রেখো তোমাকে সবসময় নিজের পথেই হাঁটতে হবে। অন্যের বিশ্বাস বা অন্যের স্বপ্নকে পুঁজি করে তুমি বেশি দূর এগোতে পারবে না।

 

অন্যের রাস্তায় নিজের শক্তি দিতে গেলে বারে বারে তুমি শক্তিশূন্য হয়ে যাবে। আর তাই অপরের পথের চেয়ে নিজের পথকে ভালোভাবে অনুসরণ করা শেখো। সেই সাথে নিজেকে জানার চেষ্টা কর, তুমি আসলে কোন পথে হাঁটতে চাও, সেই পথকে কীভাবে আরো মসৃণ করা যেতে পারে সে ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করো।

 

নিজের পথে হাঁটতে গেলে অনেক সময়ই তোমার দৃষ্টিভঙ্গিকে অপরের সামনে সমালোচনার মাধ্যমে সঠিক প্রমাণ করতে হবে। আর তাই নিজের পথটিকে ভালোভাবে চেনার চেষ্টা করো এবং নিজের পথে হাঁটার চেষ্টা করো।

 

শুধু কথা নয় বরং কাজ শুরু করবে এমন কেউ হওয়ার চেষ্টা করো

 

অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নতুন কিছু শেখার অন্যতম মাধ্যম হল চেষ্টা করা। আমাদের মাঝে এরকম অনেকেই আছে, যারা শুধু বলেই যায়, তারা এটা করবে, ওটা করবে, কিন্তু শুরু আর করতে পারেনা। তুমি নিজে থেকে নিজেকে তাদের দলভুক্ত করো না। বরং তুমি যে কোন কাজ করার কথা বললে সেটা করে দেখানোর চেষ্টা করো।

 

অথবা যে কোন উদ্যোগ নিজে নেওয়ার চেষ্টা করো। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা তোমাকে নিত্য নতুন অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত করে দেবে। মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে তার অভিজ্ঞতা। তুমি হয়তো চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে পারো, কিন্তু বিশ্বাস রেখো তোমার এই ব্যর্থতা একপ্রকার সফলতা। কারণ, যে চেষ্টা করেনি তার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি, কিন্তু তুমি অভিজ্ঞতাকে তোমার অর্জনের খাতায় লিখে রাখতে পারবে।

 

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে রবি ১০ মিনিট স্কুল ব্লগ থেকে।

Continue Reading

Inspirational

ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো – স্টিভ জবস

Published

on

অ্যাপেলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের সাফল্যের কথা জানেন না এমন মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। আর এ কারণেই তার মৃত্যুর পরও প্রযুক্তি বিশ্ব তাকে আগের মতোই স্মরণ করে। অ্যাপেলের মতো একটি সফল প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো খুব একটি সহজ ব্যাপার কিন্তু নয়। কিন্তু স্টিভ জবস তার জীবদ্দশায় এই কাজটিকেই সম্ভব করে গিয়েছেন। প্রায় সব বিষয়ই তিনি দেখতেন গভীরভাবে। আর এই গভীর পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে গেছেন যা সবাইকেই যুগিয়েছে উৎসাহ। তরুণদের  জন্য জবসের রেখে যাওয়া শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো তিনি সফলতার জন্য যে উপায়গুলো মেনে চলতেন

 

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কী ছিল সেই উপায়গুলো। 

 

আপনি যা ভালোবাসেন তাই করুন

আপনি যদি আপনার কাজকে ভালবাসতে না পারেন তাহলে সেই কাজে কোনোদিনই সফলতা আসবে না। যেমন- আপনার যদি পড়াশুনা করতে ভালো না লাগে, হাজার চেষ্টা করেও আপনাকে দিয়ে পড়াশুনা হবে না আর সেখানে রেজাল্ট ভালো করার তো কোনো প্রশ্নই উঠে না। আর যদি পড়তে ভালো লাগে আপনার বাসায় ১০জন মেহমান আসলেও আপনি পড়তে বসবেন, সেটা আপনার কাছে কোনো বাধাই মনে হবে না। একমাত্র কাজের প্রতি প্রচন্ড আবেগই পারে সফলতা নিয়ে আসতে।

 

জবস একবার বলেছিলেন, প্রচন্ড আবেগ থেকে একজন মানুষ পুরো পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি কি উপদেশ দিয়ে গেছেন তা যদি বলতে বলা হয় তবে তিনি বলেছেন, ‘আমি হয় বাসে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ নেব বা অন্যকিছু করবো, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি সত্যিই কী করতে চাই তা খুঁজে বের করতে পারবো।’ বিষয়টি তার কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই এখন থেকে নিজের কাজকে ভালোবাসুন। 

 

ইতিবাচক চিন্তা করুন

 

‘ইতিবাচক চিন্তা সফলতার মেরুদন্ড’। জীবনের খারাপ সময়গুলোতে সাহসের সাথে মোকাবেলা করার প্রধান সহায়ক ব্যাপার হলো- ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, আশা, উদ্যমতা জীবনের সবকিছুকেই সহজ করে তোলে। আমরা প্রতিদিন যা নিয়ে চিন্তা করি আমাদের Subconscious mind তাই গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে। উদাহরণ দিয়ে যদি বলি তাহলে ব্যপারটা এমন যে, আপনি যদি ভাবেন আপনি “সুখী” তাহলে আপনার Subconscious mind সেটাই মনে করবে। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন ‘আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না’ তাহলে আপনার Subconscious mind তাই কমান্ড হিসেবে গ্রহণ করবে এবং সেই অনুযায়ী ‘Reality’ বা বাস্তবতা তৈরি করবে। তাই সবসময়  Positive বা ইতিবাচক চিন্তা করুন। যখন আপনি আপনার পড়াশুনা, অফিস বা অন্য কোনো ব্যাপারে কর্মদক্ষতার ঘাটতি দেখবেন তখন ইতিবাচক মনোভাব আপনার মনে মোবাইলের ১০০% চার্জের মতো কাজ করবে। 

 

ব্যর্থতা মানেই পথের শেষ নয় বরং এটাই শুরু

 

একটা ছোট বাচ্চা যখন হাঁটতে শেখে সে বারবার পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। এইভাবেই কিন্তু সে একটা পর্যায় গিয়ে হাঁটতে শেখে। কিন্তু সে যদি পড়ে যাবো এটা চিন্তা করে বসেই থাকতো তবে কখনোই হাঁটতে শিখতে পারতো না। পড়ে যাওয়া মানে শেষ হওয়া নয়পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোই হল ‘জীবন’। আমেরিকান লেখক ডেভিড শেংক একটি বই বের করেছিলেন, “দ্য জিনিয়াস ইন অল অব অ্যাস”। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আইনস্টাইন, পিকাসো, বেটোফেনের জিন আছে। আমরা সবাই জিনিয়াস, কিন্তু প্রকৃত জিনিয়াসরা একটা বিষয়ে এত মনযোগ দেন, এত সাধনা করেন, এত চেষ্টা করেন যে তার ওই জিনিসটা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

 

স্টিভ জবস একবার বলেছিলেন, জীবন মাঝে মধ্যে তোমাকে ইট পাটকেল মারবে, বিশ্বাস হারিয়ে ফেলো না। স্টিভ জবস জীবনের প্রতিটি পথে নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে সাফল্যের চূড়ায় আরোহন করেছেন। নিজের হাতে গড়ে তোলা অ্যাপেল কোম্পানি থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। তবুও কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। তার এই অদম্য মানসিকতাই তাকে করে তুলেছিল সবার থেকে আলাদা। স্টিভ জবস নিজের জীবনকে উপলব্ধি করেছিলেন।

 

“অ্যাপল থেকে চাকুরীচ্যুত হওয়ার ঘটনা ছিল আমার জীবনে ঘটে যাওয়া শ্রেষ্ঠ ঘটনা। আমার জীবনের সেরা একটি সময়ে প্রবেশের পথ করে দিয়েছিল এই ঘটনাটি।”   – স্টিভ জবস

 

একসাথে হাজারটা জিনিসকে না বলুন

 

অ্যাপেল যা করেছে তা নিয়ে জবস যতটা গর্ববোধ করতেন ঠিক ততটাই গর্ববোধ করতেন অ্যাপেল যা যা এখনো করতে পারেনি। ১৯৯৭ সালে তিনি যখন অ্যাপেলে ফিরে আসেন তখন ৩৫০টি পণ্যসহ কোম্পানিটি গ্রহণ করেন এবং দুই বছরে পণ্যের সংখ্যা কমিয়ে ১০ নিয়ে আসেন। কিন্তু কেন করেছিলেন এমনটা? যাতে তিনি তার টিমকে দিয়ে সব পণ্যের উপর কাজ করাতে পারেন। আমাদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা  ঠিক এমনই। আমরা মনে করি যে একসাথে অনেক কাজ করতে পারাটা গর্বের। আসলে মোটেও তা নয়। মানুষের ব্রেন মাল্টিটাস্কিং উপযোগী নয়। মানুষের ব্রেন এক সময়ে একটা কাজেই ফোকাস করতে পারে। তাই এখন থেকে একটা সময় একটি কাজই করুন।

 

“অনেক কিছু করার জন্য যেমন আমি গর্বিত, তেমনি অনেক কিছু না করার জন্যও আমি গর্বিত। উদ্ভাবন মানেই হলো হাজারটা জিনিসকে ‘না’ বলা।” – স্টিভ জবস

 

বিশ্ব ভ্রমণ করুন

 

বিজ্ঞানীরা একবার গবেষণা করেছিলেন, ভ্রমণে মস্তিষ্কের পরিবর্তন কীভাবে আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে। তারা একটি ভোলেন্টিয়ার টিমকে  শহরের বাইরে কিছুদিন অবস্থানের জন্য পাঠালেন। তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয় নিজেদের সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে রাখার। ফিরে আসার পর তাদেরকে বেশ কিছু জটিল এবং সৃজনশীল কাজ করতে দেওয়া হয়। দেখা যায়, তাদের সৃজনশীল ভাবনার ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। কাজ শেখা কখনোই ক্লাসরুমের চার দেয়ালের মাঝে বা বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং চারপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক কিছু যা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। আজকাল আমরা ঘুরতে যাই শুধু ফেইসবুকে ছবি শেয়ার করার জন্য বন্ধুরা দেখতে পাবে বলে।

 

ভ্রমণে বাড়ে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। একটু বেশি সময় ধরে একটানা পড়াশুনা করলে দেখা যায় আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে আসে অর্থাৎ মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন যতই চেষ্টা করা হোক না কেন মস্তিষ্ক যেন আর কথায় শুনতে চায় না। কারণ সে তখন চাইছে বিশ্রাম। তখন মস্তিষ্কের বিনোদনের জন্য কাছের কোনো জায়গা থেকে একটু বেড়িয়ে আসা উচিত।

 

অন্যের কাছ থেকে শিখতে লজ্জা পাবেন না

 

ধরুন সামনে পরীক্ষা, আপনি একটা ম্যাথ পারছেন না কিন্তু আপনার বন্ধু আপনার থেকে ভালো ম্যাথ পারেন। এখন আপনি কি করবেন বন্ধুর থেকে ম্যাথ শিখে নিবেন নাকি ইগো দেখিয়ে বলবেন, আমি ওর থেকে কম নাকি? কখনোই এই ভুল করতে যাবেন না, এতে করে ক্ষতি আপনারই বেশি হবে। আমাদের একটা অভ্যাস হলো আমরা অন্যের কাজ থেকে শিখতে লজ্জা পাই,আমাদের ইগোতে লাগে। জীবনে সফল হতে চাইলে শেখার শেষ নেই। আপনি অন্যের কাছ থেকে যত পারেন নতুন কিছু  শিখতে থাকুন, যা আপনাকে সাফল্যের আরো কাছাকাছি পৌঁছে দেবে। 

 

স্টিভ জবস যখন ছাত্র ছিলেন তখন তিনি কম্পিউটার প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্লাসে সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। তিনি ২০ বছর বয়সে বিভিন্ন কোম্পানি যেমন এইচপিতে  কাজ শিখেছেন।

 

সফল  মানুষদের সাথে থাকুন

 

স্টিভ জবস শুধু Steve Wozniak এর সাথেই  কাজ করতেন তা কিন্তু নয়। তিনি আরো অনেক সফল মানুষদের সাথে উঠা বসা করতেন। যেমন- পিক্সার সিইও, টিম কুক। ফলে তাঁর জীবনে সফলতার পথটা খুব একটা কঠিন হয়নি। মনবিজ্ঞানীদের মতে- আমরা প্রতিদিন যেমন মানুষের সাথে থাকবো আমাদের মস্তিষ্ক ঠিক সেভাবেই কাজ করবে। আমাদের আশেপাশের মানুষের কথার প্রভাব আমাদের জীবনে পড়ে। আপনার চারপাশ যদি সফল মানুষের বা ইতিবাচক  চিন্তাভাবনা করে এমন মানুষের আনাগুনা বেশি থাকে তাহলে আপনি ভবিষ্যতে  সফল হতে সহযোগিতা পাবেন আর অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী, কৌশলী এবং সৃজনশীল হতে পারবেন। সেহেতু সফল এবং ইতিবাচক মানুষদের সাথে থাকুন যতো পারবেন।

 

ঝুঁকি নিন

আপনি চিন্তা করলেন আপনি একজন উদ্যোক্তা হবেন। তাহলে আপনাকে ঝুঁকি নিতেই হবে।  আত্মবিশ্বাসী মানুষজন খুব সহজেই ঝুঁকি নিতে পারেন, নিতে পারেন দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্তও কারণ তারা নিজের উপর অনেক আস্থা রাখেন। এবং এই গুনটিই তাদেরকে সফল করে তোলে।  স্টিভ জবস তাঁর নতুন প্রডাক্ট প্রসারের জন্য অনেক রিস্ক নিয়েছিলেন। তিনি আইফোন বের করার সময় অনেকে তাকে  নিষেধ করছিলেন কিন্তু তিনি রিস্ক নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। এবং তাতে তিনি সফলও হন।

 

আপনি যদি জীবনে সঠিক সময়ে ঝুঁকি না নিতে জানেন তবে আপনার সফলতা একটু দেরিতেই আসবে।

 

সংযোগ তৈরি করুন

 

স্টিভ জবস  ক্যালিগ্রাফি শিখেছিলেন।  কিন্তু তখনও তিনি জানতেন না এটা তার কোনোদিন কাজে লাগবে কিনা। কারণ ম্যাকিনটশ (এক ধরনের ব্যক্তিগত কম্পিউটার) বানানোর আগ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত জীবনে এর কোনো বাস্তব প্রয়োগ ছিল না। অ্যাপেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার সময়ে এই ক্যালিগ্রাফি বাস্তব জীবনে তার কাজে এসেছিল। 

 

জবস একবার বলেছিলেন,বিভিন্ন বিষয়কে যুক্ত করাই হচ্ছে সৃজনশীলতা”। তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন, জীবনে প্রচুর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তি এমন অনেক কিছুই দেখেন এবং বুঝতে পারেন যা অন্যরা পারে না।  জবস ভারত এবং এশিয়া ভ্রমণ করেছেন। তিনি ডিজাইনিং এবং আতিথেয়তা শিখেছেন। আপনি যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তার বাইরের বিষয়গুলোও শিখুন। যেমন- ডিবেটিং, প্রেজেন্টেশন স্লাইড তৈরি, ইত্যাদি। আপনার এই সমস্ত বিষয়ের পারদর্শিতাই আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে।

 

নেক্সটে কাজ করার সময় জবস্বলেছিলেন, আমি যখন বেঁচে থাকব না, তখন আমার সৃজনশীল কাজের জন্য সবাই বাহবা দেবে। কিন্তু কেউ জানবে না যে আমিও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারি।

 

২০০৫ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন- “আজ আমার পালা ফুরোল। তোমাদের সামনে আজ এক নতুন দিগন্ত। এগিয়ে যাও নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে। তোমাদের কাছে আমার শুধু একটাই চাওয়া।”

  

Continue Reading

Inspirational

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ১০জন মোটিভেশনাল স্পিকারের জীবনী

Published

on

‘হতাশা’ বর্তমানে যেন আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী । সামান্য একটু কিছু হলেই  যেন আমরা হতাশার ডালা সাজিয়ে বসি। তখন আমরা কেউ কেউ খুঁজি একটু প্রেরণা, একটু আত্মবিশ্বাস। পৃথিবীতে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের কথার জাদুতে আপনি হয়তো পারবেন আপনার হতাশা, বিষন্নতার মায়া জাল থেকে মুক্ত হতে বা নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে। তাই, জেনে নিন পৃথিবীর সেরা ১০জন মোটিভেশনাল স্পিকার সম্পর্কে।

 

১০. Nick Vujicic:

 

 

টেট্রা এনিমেলিয়া সিনড্রোমেনামটি শুনেছেন কখনো? জানেন এর সম্পর্কে? এটি একটি রোগ, যার ফলে মানুষ কোনো হাত–পা ছাড়াই জন্ম নেয়। ভ্রুণ অবস্থায় যখন মানুষের হাত, পা সৃষ্টি হতে থাকে তখন WNT3 জীনের কারণে হাত, পা সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে অন্যান্য বিভিন্ন অঙ্গও স্বাভাবিক গঠনে বাধাগ্রস্ত হয়। ঠিক এই রোগে আক্রান্ত একজন হচ্ছেন নিকোলাস জেমস ভুজিসিক। যার জন্ম ১৯৮২ সালের ৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার  মেলবোর্ন শহরে। 

 

‍মাত্র ১০ বছর বয়সে স্কুল জীবনে যে নিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তাঁর পরের গল্পটা কিন্তু  একেবারেই ভিন্নরকম। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর হাইস্কুলের এক দারোয়ান তাকে জনসম্মুখে বক্তৃতা দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। ৫৩ বার প্রত্যাখিত হওয়ার পরেও হতাশা কিন্তু তাকে ছুঁতে পারেনি। তিনি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন যে, ঘণ্টায় এক হাজার আটশত  লোককে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য ‘গিনেজ বুক’ এ তাঁর নাম উঠেছে। এছাড়াও শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে মিনিটে তিনি কম্পিউটারে ৪৭টি শব্দ টাইপ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, নিক “Without Limbs” নামে একটি প্রতিষ্ঠানও চালান। মানুষের কাছে নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কখনও হাত-পা লাগে না। সেটিই প্রমাণ করেছেন হাত-পা বিহীন এই যোদ্ধা।

 

 

“You’re not good enough. It’s a lie to think you’re not worth anything.” – Nick Vujicic

 

৯. Brian Tracy:

 

 

১৯৪৪ সালের ৫ই জানুয়ারী  কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে তাঁর জন্ম । তিনি “ব্রায়ান ট্রেসি ইন্টারন্যাশনালের” সিইও ছিলেন। এটি বিশেষ ব্যক্তি এবং সংগঠনকে গড়ে তুলতে, প্রশিক্ষণের এবং উন্নতিতে সহায়তা করার জন্য একটি সংস্থা।

 

ট্রেসির মূল লক্ষ্যই ছিল অন্য ব্যক্তিদের তাদের লক্ষ্য দক্ষতার সাথে অর্জনে সাহায্য করা। এছাড়াও  জীবদ্দশায় তাঁর সাফল্যগুলি বিস্ময়কর। ব্যবসায়ের বিশাল সংখ্যক পরামর্শ, বিশাল সংখ্যক সেমিনার হোস্টিং এবং ব্যবসা, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান এবং দর্শনশাস্ত্রে বছর বছর ধরে গবেষণা করেন। এসকল ভিত্তিই তাঁকে বিশ্বসেরা  প্রেরণামূলক স্পিকার গঠনে অনেকাংশে সাহায্য করেছে।

 

“Never say anything about yourself you do not want to come true”– Brian Tracy

 

৮. Robin Sharma:

 

 

বিশ্বের সেরা অনুপ্রেরণামূলক স্পিকার রবিন শর্মা নেপালে ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ডালহাউসি ইউনিভার্সিটি অফ স্কুল অফ আইন থেকে সরাসরি একজন পেশাদার আইনজীবী হন।

 

কেউ কেউ বলতে পারেন যে রবিন শর্মা স্পিকারের পরিবর্তে একটি প্রেরণামূলক লেখক। তবে তিনি কিন্তু কোন মামুলী লেখক নয়, রীতিমত মিলিয়ন কপি বিক্রি হওয়া বইয়ের অ্যামাজন বেস্ট সেলার লিস্টের লেখক। ক্যারিয়ার নিয়ে তাঁর সাড়া জাগানো বই  “The Monk Who Sold his Ferrari” ৫ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে । এছাড়াও স্ব-সাহায্য ও নেতৃত্বের বিষয়ে শর্মার ১৯৯৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মোট ১৫ টি প্রকাশিত বই হয়েছিলো ।

 

“Having talent is fantastic. Having confidence is even more important.” -Robin Sharma

 

৭. Wayne Dyer:

 

 

অনাথ ছেলে থেকে “প্রেরণা গুরু” যার শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে অনাথারে। জন্ম ১৯৪০ সালের ১০ মে ডেট্রয়েটে। তিনি তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সারা বিশ্বের অনেকের জীবনকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে কর্মজীবনের শুরুটা করলেও কিন্তু ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মনোবিজ্ঞান সমাপ্ত করেন। তারপর, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং এন্ড এডুকেশন ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর প্রথম বই “Your Erroneous Zones” সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিক্রয়যোগ্য বইগুলির মধ্যে একটি, তারিখ অনুসারে বিক্রি হওয়া আনুমানিক ৩৫ মিলিয়ন কপি। প্রেরণাদায়ক স্পিকার, মনোবিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং স্ব-সহায়ক বইগুলির শ্রেষ্ঠ লেখক, তিনি ২০১৫ সালে হাওয়াইতে লিউকেমিয়া মারা যান।

 

“When you judge another, you do not define them, you define yourself” -Wayne Dyer

 

৬. Zig Ziglar:

 

 

সেলস্ ম্যান, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং একই সাথে একজন বিখ্যাত আমেরিকান লেখক হিসেবে জিগ জিগলার  সারা বিশ্বে পরিচিত। জন্ম গ্রহণ করেছেন আলবামার, কফি কান্ট্রিতে ১৯২৬ সালের ৬ নভেম্বর।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৩৫-১৯৪৬ সাল থেকে জিগ  সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেকগুলো কোম্পানির জন্য সেলসম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন। অবশেষে মোটরগাড়ি পারফরমেন্স কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে ওঠে। প্রেরণামূলক সেমিনারে অংশগ্রহন শুরু করার পাশাপাশি ১৯৭৫ সালে তাঁর প্রথম বই  “See You at the Top” প্রকাশিত হয়। ১৯৭৫ এবং ২০১২ সালে তিনি প্রথম অন্তত ১৫টি বই লেখেছেন। ২০১২ সালের ২৮শে নভেম্বর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিশ্বখ্যাত এই লেখক, সেলস্ ম্যান এবং মোটিভেশনাল স্পিকারের জীবন অধ্যায় আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে আছে।

 

“You were born to win, but to be a winner, you must plan to win, prepare to win, and expect to win” – Zig Ziglar

 

৫. Arnold Schwarzenegger:

 

 

আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার একজন কিংবদন্তীর নাম। যিনি অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, আবার পেশাদার বডিবিল্ডারও। জন্ম ১৯৪৭ সালের ৩০ শে জুলাই অস্ট্রিয়াতে। মাত্র ১৩ বছরে প্রথমবার পা রাখেন জিমে৷ ব্যস, ওটাই প্রথম প্রেম৷ ১৪ থেকে ২০ এই ক’বছরেই পুরোদস্ত্তর বডিবিল্ডার৷

 

তবে এর জন্য তাঁকে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি, কেননা তাঁর বাবা চাইতেন  ছেলে পুলিশ অফিসার হবে। তাই শরীরচর্চার পাশাপাশি যোগ দিয়েছিলেন অস্ট্রিয়ান ফৌজে। ছোটখাট খেতাব জিতলে কী হবে, ফৌজের বিধি ভাঙার জন্য আর্নের কপালে জুটেছিল শাস্তি। শরীরচর্চার জন্য পেয়েছেন লাগাতার সেরার সম্মান৷ পাঁচবার হয়েছেন মিস্টার ইউনিভার্স৷ সাতবার মিস্টার অলিম্পিয়ান৷ ভাবা যায়! গিনেস বুকেও তার নাম উঠেছে৷ সব থেকে কম বয়সে মিস্টার ইউনিভার্স-এর খেতাব তাঁর পকেটে। এছাড়াও ১৯৮৪ সালে  “দ্য টার্মিনেটর” মুভির মাধ্যমে সর্বকালের সেরা অ্যাকশন হিরোর  সম্মান। ২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবেও। এভাবেই তিনি প্রমাণ করেছেন, ‘স্বপ্ন যদি হয় আকাশ ছোঁয়া, সেখানে সফলতা আসবেই’।

 

“Just remember can’t climb the ladder of success with your hands in your pockets” – Arnold Schwarzenegger

 

৪. Jim Rohn:

 

 

জিম রোহনের জন্ম  ১৯শে সেপ্টেম্বর ১৯৩০ সালে ওয়াশিংটনে ইয়াকিমাতে। তিনি  ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তার পাশাপাশি প্রেরণামূলক স্পিকার।

 

৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, রোহন একজন দক্ষ শিল্পীর মতো তাঁর নৈপুণ্যকে সম্মান করেছিলেন। মানুষের জীবনযাত্রায় বিশ্বকে সাহায্য করেছেন যা তাদের সম্ভাব্য কল্পনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এক সময়ের অত্যন্ত সফল বিক্রয় কোম্পানি “Nutri-Bio”-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অবশেষে ব্যবসার বাইরে চলে যাওয়ার পরে, তাকে তার একটি ক্লাবের সভায় কথা বলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং এরপর থেকেই  তিনি অন্যান্য অনেক সভায় কথা বলার আমন্ত্রণ পান এবং প্রেরণামূলক স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিশ্বের সেরা এই প্রেরণামূলক স্পিকার ২০০৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর  তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।

 

“Discipline is the bridge between goals and accomplishment ” – Jim Rohn

 

৩. Les Brown:

 

 

বিশ্বের সেরা অনুপ্রেরণামূলক স্পিকার লেস ব্রাউন ১৯২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মিয়ামি, ফ্লোরিডাতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখক, রেডিও ডিজে, সাবেক টেলিভিশন হোস্ট এবং সাবেক রাজনীতিবিদও বটে। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে, তিনি “ওহিও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের সাবেক সদস্য ছিলেন ।

 

অন্যান্য প্রেরণামূলক স্পিকারদের মধ্যে ব্রাউন  প্রেরণামূলক ভিডিও তৈরিতে অবিশ্বাস্যভাবে জনপ্রিয়। কারণ তার বক্তৃতা এত গভীর এবং অর্থবহ যে তা সত্যিই জীবনের অনেকক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তনে সহায়ক। তাঁর “It’s Not over until You Win” এবং “Live Your Dreams” বই দুটো শীর্ষ  অনুপ্রেরণামূলক বইগুলোর মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও  একজন স্পিকার হিসেবে ব্রাউন সারা বিশ্ব জুড়ে ফরচুন ৫০০টি কোম্পানি এবং সংগঠনকে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর কথা বলার শৈলী এবং ভাষণের জন্য দুর্দান্ত আবেগ তাঁর দর্শকদেরকে তাদের জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে  এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রেরণা দেয়।

 

“In every day, there are 1,440 minutes. That means we’ve 1,440 opportunities to make a positive impact” -Les Brown

 

২. Tony Robbins:

 

 

১৯৬০ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি  লস এঞ্জেলেসে টনি রবিন্স এর জন্ম। তিনি তাঁর সেমিনার ও আত্ম-পরিবর্তনমূলক বইয়ের জন্য পৃথিবী জুড়ে বেশ খ্যাতি লাভ করেছেন। তাঁর বয়স যখন ১২ কোঠায়, তখন তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। সবটা মিলিয়ে তাঁর বাল্যকাল ছিল খুবই ‘অবমাননাকর’; সেই সাথে তাঁর মদ্যক মা। তাই সব থেকে রেহাই পেতে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সে বাড়ি থেকে চলে আসে।  

 

মূলত প্রেরণামূলক ভাষ্যের শুরুতে রবিন্স জিম রোহনের জন্য সেমিনারে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। পরে তিনি নিজের সেমিনারে হোস্টিংয়ের জন্য নিজের যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। টনি তার সেমিনার, প্রেরণামূলক বক্তৃতা, অনুপ্রেরণীয় উদ্ধৃতি এবং সেরা বিক্রয় বইগুলির মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে অনেক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে ঠিক একজন জাদুকরের মতো। শুধু তাই নয়, তিনি বিল ক্লিনটন ও অপরাহ উইনফ্রে এর মতো ব্যক্তিত্বদেরও কোর্চ করেছেন। ১৯৮৭ সালে তাঁর প্রকাশিত বই  “Unlimited Power” যা বর্তমানেও বেস্ট সেলার লিস্টের তালিকাতে রয়েছে।

 

“Successful people ask better questions, and as a result, they get better answers.” – Tony Robbins

 

১. Eric Thomas:

 

 

এরিক থমাসের জন্ম  শিকাগোতে ১৯৭০ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর। তিনি  একজন প্রেরণামূলক স্পিকার এবং লেখক হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গৃহহীন ছিলেন। টানা দুইবছর তিনি রাস্তার ঘরে বসবাসের পাশাপাশি ডাস্টবিন থেকে খাবার  সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

 

তখন এরিক নিজেকে এমন একজন ব্যক্তিতে গড়তে চাইলেন, যাতে তিনি নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন এবং তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে ধাবিত হতে থাকেন। তাঁর ইউটিউব ভিডিও কিংবদন্তী এবং তার সেরা বিক্রয় বই লক্ষ লক্ষ ডলার উপার্জন করেছে। তিনি নিজের পরামর্শকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ফোর্টইউন ৫০০টি কোম্পানি এবং পেশাদার ক্রীড়া সংস্থা উভয়ের সাথে কাজ করেছেন। এছাড়াও হিপ-হপ প্রচারক হিসাবেও পরিচিত। আপনি যদি এখনও থমাসকে না শুনে থাকেন! তাহলে তাঁর Thank God It’s Monday (TGIM)” এর পর্ব গুলো শুধু শুনুন। দেখবেন পরিবর্তনটা নিজেই বুঝতে পারছেন।

 

“Succeed as bad as you want to breathe, then you’ll be successful.” – Eric Thomas

 

দেখলেনতো, হতাশা, কষ্ট, খারাপ সময় পৃথিবীর সকল মানুষকেই কিছু সময়ের জন্য হলেও স্পর্শ করে। কিন্তু যারা এসবকে তোয়াক্কা না করেই জীবনে  এগিয়ে যায়, তারাই পারে দিন শেষে সাফল্যের হাসি নিয়ে বাঁচতে। তাই শিক্ষা নিন সবার জীবন থেকে আর এগিয়ে যান আপনার স্বপ্নের পথে।

 

আরও পড়ুনঃ সফল মানুষদের সকালের অভ্যাস

Continue Reading

Trending